রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০১৫

যেমন খুশি লেখা একটা গল্পঃ অপেক্ষা (৪)



আচ্ছা কাছাকাছি তো অনেক খাবার দোকান আছে এখান থেকেও কিছু খাওয়া যেতে পারে,কিন্তু না খাবার প্রতি আজ আর ওর তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ,গ্রামের ছেলে একবেলা না খেয়ে থাকা এ আর এমন কি...ওর মনের মধ্যে  আজ যেন একটা অন্য রকম আন্দোলন চলছে, কিসের  সেটা... সুখের নাকি দুখের? স্বপ্নের নাকি বাস্তবের?বুঝতে  পারছে না,তবে যাই হোক না কেন এই অনুভূতি টাও ওর কাছে অদ্ভুত,ওদিকে কখন থেকে টিপ টিপ বৃষ্টি পড়েই চলেছে, থামছে ও তো না, তবে এও কি প্রকৃতির কোন খেলা! মানুষের সাথে প্রকৃতি তো কত খেলা করে, হয়তো   আজকের এই বৃষ্টি টা ও তেমন কোন ঈশারা প্রকৃতির,হয়তো অনির্বাণের মনের মধ্যে জমতে থাকা বহু দিনের মেঘেএসেছে এই বৃষ্টি।হতে পারে... কি !             
এখন  বেলা ৩ টে  শহুরে মানুষের  ভাত ঘুম এর সময় বোধ হয় এটা,  নয়তো এইসময়  রাস্তা ঘাট এমন ফাকা কেন ?দু একটা খাবার দোকান ছাড়া বাকি দোকান পাট গুলো ও তো বন্ধ । অনির্বাণ এর কেন জানি মনে হচ্ছে ওই  যে রাস্তার ওপারে যে বিশাল/ সুবিশাল আবাসন ওরই মধ্যে কোথাও না  কোথাও ওর চির প্রতীক্ষার অবসান রয়েছে, ওখানে গেলেই হয়তো দেখা পাওয়া যাবে তার, যার দেখা পাবার আশা করে এসেছে সে অনন্তকাল ধরে...সেই যে সে যাকে বহুকাল মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে, সে তো তার কাছে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকা কোন এক ফুল,যাকে চেনা চেনা মনে হলেও চির অচেনা যে... এ তো সে যে আছে  তার বহু যত্নে তুলে রাখা সেই চিঠি আর ছেড়া  খাম   গুলোতেও,  একটু স্পর্শ সেখানেও তো লেগে আছে যার, আজ তার ঠিকানার এতো কাছে এসও  অনির্বাণের  মনে হল আজ এখানে তার আসা উচিৎ হয়নি,  এই  আসাটা তার একটা ভুল, একটা কথার খেলাপ করা, কারন কথা  তো এমন ছিল না, তার সাথে কখনো এভাবে ওভাবে কোনভাবেই কোন রকম দেখা হবার কথা তো  ছিল না কোনদিন, মনের মধ্যে লিখে রাখা সে অলিখিত চুক্তি তেই তো এতদিন বাধা ছিল অনির্বাণ, তবে আজ কেন এখানে উপস্থিত হল সে... ?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন