কোন এক চিঠিতে জুথি লিখেছিল আমদের দেখা হওয়া উচিৎ
নয়, ভেবো এ এক অলিখিত শর্ত, কেন দেখা হওয়া উচিৎ নয় তা অবশ্য বলেনি, ওর ওই হেয়ালি স্বভাবই
বোধ হয় ওর প্রতি অনির্বাণের মনকে আরও বেশী টেনেছিল,তখনকার কোন কিছুই তো আর আজকের মতো এমন ছিল না, যাকে এত
সহজে চিঠিতে পাওয়া যেত, তাকে বাস্তবের ভূমিতে দেখার জন্যে এতো আকুলতা জন্মাবে
ওর মনে অনির্বাণ তো সেটা ভাবতে পারেনি, তখন এক
বন্ধুর চিঠির উত্তরে চিঠি লেখা, ভালো সাহিত্য জানতো বলে নিজের সে শিক্ষা দিয়ে কাউকে অভিভূত করবার প্রবল ইচ্ছা এসবই পেয়ে বসেছিল ওকে , ওর কাছে এ যেন এক মজার খেলা হিসেবেই শুরু হল, শুরু টা এমন ভাবে হলেও তার পরের অংশ টি খেলা ছিল না মোটেই,কঠিন কিছু বিষয়, যেমন প্রতি টা মানুষের জীবন বোধ
থেকে নিজেদের ভালো লাগা মন্দ লাগা এবং সর্বোপরি একে অপরের প্রতি প্রবল ভাবে
আকর্ষিত হয়ে পড়েছিল। অবশ্য সেটা অনির্বাণের কেবল মনে হয়েছিল জুথির চিঠি তে, আজও
যখন ওই চিঠি গুলো ও দ্যাখে বা পড়ে, খুব
অদ্ভুত ভাবে সেই একই আকর্ষণ অনুভব করে, আর এটাও মনে প্রানে বিশ্বাস করে আর
যাই হোক কোন মিথ্যে বা বানোয়াট লেখা ওগুলো হতে পারে না।জুথি নামের ওই মেয়েটি ওকে
প্রতারনা করতে পারে না কক্ষনো... কিন্তু চিঠির উত্তরে আর একটা চিঠি পাওয়ার সে অপেক্ষা ও বেশ ভালোই কাটছিল অনির্বাণের সেই দিন গুলো, ওর কাছে
সে সময় গুলো হয়তো জীবনের সবচে সুন্দর স্মৃতি হিসেবে সাজানো ও রয়েছে, অথচ জুথি সে
অপেক্ষাকে কেন এভাবে এভাবে শেষ করে দিল? সব সময় শর্ত মেনে কি জীবন
চলে ? কিছু শর্তহীন শর্তের কথা জুথি ও কি ভুলে
যায় নি? অবশ্যই ভুলে গ্যাছে সে, নয়তো এমন ভাবে অনির্বাণ কে নিঃস্ব করে কেন হারিয়ে গেল... হঠাৎ এভাবে হারিয়ে যাবার অধিকার কি তার ছিল?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন