সোমবার, ৫ জুন, ২০১৭

ভালোবাসা



অনেকদিন পর স্বপ্নে পাওয়া আকাশে আজ দুপুর গরিয়ে সন্ধ্যে নামল, তবু কেন যেন মনে হলো সময় কোথাও দাড়িয়ে আছে নীরব নিথর! ঝট করে সন্ধ্যে নামার এ দৃশ্য আগেও দেখেছি বহুবার...অথচ আজ যেন মন অন্ধকার ছুঁয়ে বসে থাকতে চাইছে, ইচ্ছে করলেই অভিমান করা যায় তবু কে যেন বললে আজ আর ওকে ডেকো না অযথা, নিশ্চুপ বসে থাকতে থাকতে মনে পড়ে কে কবে জ্বালেনি আলো কিন্তু এ চোখে তাকিয়ে ছিল গভীর বিস্ময়ে...আহা কথা রা কেমন স্মৃতি হয়ে যায়,আর ভালোবাসা হতে থাকে গভীর থেকে গভীরতর...   

রবিবার, ৭ মে, ২০১৭

লালনের গান

খাঁচার ভেতর অচিন পাখি ক্যামনে আসে যায়...সত্যিই তো! এই যে এইখানে যে খাঁচাটা সেখানে এমন মায়াময় আবার কখনোবা নিষ্ঠুর ওই পাখিটা ক্যামনে আসে যায়? কেউ কি বলতে পারবেন?কিংবা তারে কি ধরা যায় না ছোঁয়া যায়? আচ্ছা ধরার চেষ্টা যে কেউ করেনি তা তো নয়! তাই না?...কিন্তু পেরেছে কি ধরতে? কতো কতো দিন গেল...মুঠো মুঠো রোদ গেল, উঠোন পেরিয়ে মাঠ গেলো, মাঠ পেরিয়ে ক্ষেত, ক্ষেতে এবারে ফসল হয়েছে খুব,ক্ষেতের ধারে ধারে কোথাও বা বেতের বন, অথচ আমি খুজে চলেছি একটা আমগাছের ছায়...যদিও পড়ন্ত বেলা অথচ সমস্ত পথটা জুড়ে কেমন যেন মন খারাপ করা আলো, এর পরেও আমি পেরচ্ছি পথ..এভাবে একটা আলপথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে কখন যেন হুস করে বিকেলেও পৌঁছে গেছি...নিজেকে কেমন যেন সহায় সম্বলহীন আর একলা মনে হতে থাকে! আজ তো হঠাৎ করে মেঘ আসেনি, তবু আকাশ জুড়ে এমন কোলাহল কেন? কারা ফিসফিস করে চলেছে...অবিরত?হাওয়ার ওই আসা যাওয়ার শব্দে কোন বিভ্রম নেই তো? আমি কোথায় একটু ঠাই খুঁজবো তা না, খুজে চলেছি চাঁদ...দিনের বেলার চাঁদ!যেদিক থেকে সূর্য্যি ডোবে তার ঠিক উল্টো দিকে চোখ রেখেছি...অদ্ভুত একটা মায়া মায়া ঘোর যেন! তার মধ্যেও আমি হেঁটে চলেছি,এই তো আর কিছুক্ষন হাঁটলে গোধূলি পেরবো আর ঠিক তারপর নামবে সন্ধ্যে...তারে ধরতে পারলে মন বেড়ি দিতাম পাখির পায়...!   

সন্ধি



আপাতত খানিকক্ষণ ম্লান মুখে বসে থাকতে হবে, এর অর্থ অভিমান! হ্যা আমি অভিমান করে আছি, ওই যে মেঘ যে খুব দ্রুত সরে সরে যাচ্ছে আকাশের বুক থেকে... সামান্য হাওয়াতে,আমি অভিমান করে আছি তার উপরে!আমি হাওয়াকে সামান্য বলতে চাইনি কখনও, কিন্তু ও যা শুরু করেছে  তা তে আমাকে রাগ হয়ে এসব কথা বলতে হচ্ছে, আমি হাওয়ার সাথে রাগ আর মেঘের সাথে অভিমান করে থাকতে পারবো বেশ কিছুক্ষণ, কিন্তু অনেকক্ষণ নয়... একটা সময় পর আমার আর অভিমান করতে ভালো লাগবে না, আমি রেগে বেশীক্ষণ থাকতে পারি না...হয়তো সন্ধিই হয়ে যাবে আবার!

আদিখ্যেতা



যদি বলি সেভাবেও ভাবা হয়নি জীবন, যেভাবে ভাবলে সবকিছু উপেক্ষা করা যায়, সবকিছু মানে এই যা কিছু নিজের ভাবি অথচ নিজের নয়, অথবা সুন্দর বলে মনে হলেও আদপে দেখি সেও আছে ওই অসুন্দর(মৃত্যুর) হাত ধরে(যদিও মৃত্যুর আলাদা এক ধরনের সৌন্দর্য আছে)!...আসলে কি আমরা এক জীবনে বড় বেশি প্রত্যাশা করে ফেলি, সেটাকে কেন জানি না বাদ ও দিতে পারি না, মোহ মায়া দুঃখ অভিমানে ঘেরা এ জীবনে সুখের সে হাওয়া যা কেবল এক কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়, হয়তো তা বুঝতে বুঝতেই অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়...আবার এও তো ঠিক যে এক ধাক্কায় সবটা বুঝে গেলেই কিছু ভালো ফল হবে/হত এমনটাও না, তবে কিছু না পাওয়াতে বা অনেকখানি অপ্রাপ্তিতে যে কি মধুর এক মায়া লুকিয়ে থাকে তা আমরা বুঝেও বুঝতে চাই না...হয়তো এটাও বুঝতে চাই না যে সেও তো এক পাওয়া? যা কিনা আমাদের মনে দুঃখ ভারাতুর,বিরহ কাতরতা কিম্বা এই মনকেমন ভাবটাকে এতো বাড়িয়ে দেয়, এক অন্যভুবনের আনন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়...আর বলে, নেই বলেই হয়তো এমনভাবে চাইছো আমারে আজ...থাকলে বোধকরি ভালোবাসাটা এতো মোহময়/প্রত্যাশী হতো না...অথবা সেইসব ভালোবাসা যা আমরা ভালোবাসা বলে জানি বুঝি সেও যে ওই হারিয়ে যাওয়া বা দূরে থাকার মধ্যেই বড় বেশি করে বাজে...এইসব আত্ম উপলব্ধির জন্যে হলেও কিছুটা না থাকা বা অপ্রাপ্তি কত যে ভালো!

সময়ঃ চৈত্রের মাঝামাঝি ১৪২৩ বঙ্গাব্দ

অবাধ্য ইচ্ছে



ইচ্ছেরা চিরটাকাল কি অবাধ্যই না থেকে যেতে পারে! কতো প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কোথায় যেন প্রশ্রয় পেয়ে আরও নতুন নতুন প্রশ্ন এসে জুড়ে বসে যায় মনের মধ্যে,এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন যে কি আর বলি! তার উপর এই বৃষ্টি,এলোমেলো দমকা হাওয়া নিয়ে এমন ভাবে এলো না জানি কি অঘটনই না ঘটিয়ে ফেলবে এবার...কিন্তু হায় সেখানেও বিপর্যয় ধূলোর পর ধুলো ঊড়লো মানুষের কথা বাদ দিলাম গাছগুলোকেও একেবারে জর্জরিত করে ফেলল! তবু যদি শেষে আসিতো একটু জোর সোর...টুপটাপ কোন আওয়াজ শোনা যায় নি, সাধারণ দুয়েক ফোঁটা পড়েছে কি পড়ে নি, অমনি ফিরে যেতে হলো? এতো চঞ্চল মন তোর? এসেই বলে যায়! দ্যাখ তো গাছের পাতা ফুলের পাপড়িগুলো কেমন অপরিষ্কার কাঁদা মাখা হয়ে গেল? আমাদের ইচ্ছেরা কতোটা অবাধ্য সেটা বুঝতে না পারলেও তোর অবাধ্য ইচ্ছের কারন জানতে ইচ্ছে করে খূব!  

দেখা অদেখা



আজ বহুদিন হয়ে গেল তোমার দিকে তাকাই না...কেন তাকাই না সে প্রশ্নের উত্তর আমি আজ দেবো না,ওটা তোমার অজানা থাক।আজ আমি তোমাকে বলবো,তোমার দিকে তাকানো প্রথম দিনটির কথা.. আচ্ছা এই যে আমাদের মনে এত এত প্রত্যাশা এই জিনিসটা খুব খারাপ তাইনা? তুমি কি উত্তর দেবে আমি জানি, তুমি বলবে সবই মোহ মায়া...এসব ত্যাগ করতে হয় সত্যিই কি আমরা পারি মায়া ত্যাগ করতে...নাকি মোহের কথা ভুলতে...পারি না তো! এই সেই কবে তোমার পাণে চেয়েছিলাম, দ্যাখো সেই স্মৃতি আজও কেমন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি বুকের মধ্যে...আমার প্রানের পরে চলে গেল কে...বসন্তের বাতাসটুকুর মতো”  রবি ঠাকুরের এই গানটার কথা মনে আছে তোমার? আমার মনে আছে...আসলে সবসময়ই মনে থাকে আমার এটা...ছাড়ো ওসব, সেই তোমাকে দেখার দিনটার কথাই বলি কেমন? এমন অরুপ রুপের জ্যোতি আমি এর আগে আর কখনো দেখেছি  বলে মনে পড়ে না, ওই এতো এতো আলো আর রঙে রূপে এতো রঙিন ছিলে যে আমি চাইলেও চোখ ফেরাতে পারি নি গো!...একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে একদৃষ্টে কেবল তাকিয়েই দেখছিলাম...জানি না আমার কি হয়েছিল তখন...আমার  সে কয়েকটা মুহূর্তে নিজেকে যে কতো শত বার ভেঙে টুকরো করেছি...আর  নিজেকে  আমার কতোটা এলোমেলো আর লণ্ডভণ্ড মনে হয়েছিল তা কি তুমি জানো? নাকি তোমার মন কেবল ওই ঝাউ বনে হাওয়া দের লুটোপুটি আর বসন্তের হলুদ ফুলের সুগন্ধে আদ্র হয়েছিল? আর আমি ওইভাবে ঠিক ওইভাবে কতক্ষণ কত সহস্র বছর তোমার দিকে তাকিয়ে ছিলাম ...সে কেবল আমিই জানি...তবে আলোটা যখন একটু কমে আসছিল জানি না আকশে মেঘ ছেয়ে গেছিল কিনা... ওই মিইয়ে যাওয়া আলোতে আর মেঘের খানিক ছায়া যখন পড়েছিল তোমার ওই চোখে আমার তো তখন ঘোর আর কাটেই না! আমি চেয়ে আছি অপলক মুগ্ধতা আর একরাশ বিস্ময় নিয়ে, ওই এক পলকের একটুখানি চাওয়াতে কি ছিল তুমি বলতে পারো? আমার সেদিন শ্বাস রুদ্ধ হয়ে এসেছিল, কণ্ঠে এক ফোঁটা শক্তি ছিলনা.. নিজেকে সেদিন আমার মনে হয়েছিল নেশাগ্রস্থ একজন মানুষ... তারপর...থাক