বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকক্ষণ, তার পরেও এখানে
দাড়িয়ে থাকার আর কোন মানে হয় না, তবু কেন জানে না কোন এক অদৃশ্য টানে আরও মিনিট দশেক ওখানেই দাড়িয়ে
রইল অনির্বাণ। এরই মধ্যে ওই বাড়ির দিকে তাকিয়ে রইল বেশ কিছুক্ষন, দেখল পরপর কয়েক টা গাড়ি বাড়ির
ভিতর ঢুকল এবং বেড়লো ।এই বাড়ির কেউ কি পায়ে হাটে না, সবাই গাড়িতে চড়ে? জুথি কোন এক
চিঠিতে ওকে বলেছিল, ওর জীবন খুব সরল ও সাদা সিধে,একটা সাধারণ মধ্যবিত্তের যেমন হয়
ঠিক তেমন, তবে এই কি তার নমুনা...! এই গাড়ি গুলো আসছে বা যাচ্ছে তার কোন একটির মধ্যে জুথি কি ছিল? একটা গাড়িকে তো বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্য
করলো অনির্বাণ, গাড়ির ভিতরে বসা রোগা
চেহারার কিন্তু বেশ সুন্দরী একটা মেয়ে , যার কিনা এই মেঘলা বেলায় ও চোখে সানগ্লাস
আর কোলে অ্যালসেসিয়ান ছিল... এই মেয়েটিই জুথি নয়তো?...এর আসল নাম হয়তো অন্য কিছু, কিন্তু
অনির্বাণের কাছে তো সে জুথি...পরক্ষনেই আবার ওর মনে হল জুথি সম্পর্কে কিসব অদ্ভুত
কথা ভাবছে ও আজ... এতদিনে জমে ওঠা ওর প্রতি এত বিশ্বাস কি আজ ভাঙবার দিন নাকি ? নয় তো গত
আড়াই বছরে ও প্রায় ২০ টি চিঠির কোন উত্তর না পেয়েও একফোঁটা অবিশ্বাস যাকে অনির্বাণ করতে পারে
নি , আজ কেন তার সেই বিশ্বাস এমন আঘাত হানছে...
এই শহরের প্রতি ওর আজ যেটুকু তার টান সে
তো ওই মেয়েটির জন্যে, আজ এই শহর কে তার এত দুরের আর এত কঠিন কেন মনে হচ্ছে? এর হৃদয়ে
ভালোবাসা কই ? কোথাও তো চোখে পরছে না... না আর সময় নষ্ট সে করবে না এখানে...আর
কয়েক মুহূর্তও এখানে কাটালে তার মনে জুথির জন্যে রাখা সে অকৃত্রিম ভালোবাসা ও হয়তো
কৃত্রিম হয়ে যাবে। না সে এটা কিছুতেই হতে দেবে না। আর
নয় ওদিক তাকানো, এবার রাস্তা পার হয়ে সোজা স্টেশন চলে যাবে,
আর সেখান থেকে নিজের চির পরিচিত ঠিকানায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন